জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ মাহবুবুল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় আরও তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে চার আসামির অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
আদালতের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া তিনজন হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে, ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে, ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক বক্তব্যে আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন যেকোনোভাবে দমনের নির্দেশনা রয়েছে দলীয় নেতা হানিফের। যুক্তিতর্কে ওই বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রভাবেই কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট বলে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের সময় উপস্থিত থেকে সমর্থন জানানো, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় এক বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা।