বর্তমানে দেশের বাজার ভর্তি রুপালি ইলিশ। কিন্তু বেশিরভাগই ভারত কিংবা মিয়ানমার থেকে আনা। এসব ইলিশকে পদ্মার বলে চালিয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। দেখতে খুব একটা আলাদা না হওয়ায় সেই ইলিশ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। আবার কেনা দাম খুব অল্প হলেও চড়া মূল্যেই এসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। তবে দেখতে অনেকটা একই রকম হলেও স্বাদ, ঘ্রাণ আর তৃপ্তিতে পদ্মার ইলিশের জুড়ি নেই। তাই কিভাবে চিনবেন কোনটা পদ্মার ইলিশ আর কোনটা গুজরাটি ইলিশ।
মাছের চোখ
পদ্মার ইলিশ মাছ চেনার আরেকটি সহজ উপায় হচ্ছে চোখ আর গায়ের রঙ। টাটকা ও আসল পদ্মার ইলিশের চোখ সবসময় পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল দেখাবে। আর গুজরাট থেকে আসা ইলিশগুলো দীর্ঘ সময় বরফে থাকার কারণে এবং সামুদ্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য এসব মাছের চোখের চারপাশ কিছুটা কালচে লাল বা রক্তবর্ণ ধারণ করে।
শারীরিক গঠন ও আকৃতি
এই দুই ইলিশের পার্থক্য বাহ্যিক গঠন দেখে সহজেই বোঝা যায়। পদ্মার ইলিশ সাধারণত আকারে কিছুটা খাটো হয়। তবে মাঝের অংশ বেশ গোলগাল, চওড়া ও ভরাট হয়ে থাকে। এর পিঠের অংশ কিছুটা উঁচু এবং লেজের দিকটি পুরু হয়। আর গুজরাটের ভারুচ বা পশ্চিম উপকূল থেকে আসা ইলিশগুলো লম্বাটে ও সরু প্রকৃতির হয়। এদের পেট বা মাঝের অংশ নদীর মাছের মতো অতটা ভরাট থাকে না।
গায়ের রঙ ও আঁশের উজ্জ্বলতা
উভয় মাছের গায়ের রঙ রুপালি হলেও তাদের উজ্জ্বলতায় অনেকটা ফারাক আছে। পদ্মার ইলিশের আঁশ অত্যন্ত চকচকে রুপালি রঙের হয়। আলো পড়লে পিঠের দিকে হালকা সোনালি বা বেগুনি আভার ঝিলিক দেখা যায়। শরীরের ঠিক মাঝখান দিয়ে একটি হালকা লালচে রেখা স্পষ্ট থাকে। আর গুজরাটের ইলিশের ক্ষেত্রে রুপালি ভাব থাকলেও পিঠের অংশটি তুলনামূলক বেশি কালচে বা ধূসর দেখায়। নদীর তাজা মাছের মতো চেনা রুপালি-সোনালি উজ্জ্বল ভাব থাকে না।
মাছের স্বাদ ও সুবাস
পদ্মার আসল ইলিশের আকর্ষণ লুকিয়ে থাকে এর স্বাদ ও ঘ্রাণে। নদীর মিষ্টি পানিতে সাঁতার কাটার কারণে পদ্মার ইলিশের শরীরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক তেল জমা হয়। এতে মাছ অত্যন্ত নরম ও তুলতুলে হয়। এই মাছ রান্নার সময় যে মনমাতানো সুবাস ছড়ায়। আর সামুদ্রিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা গুজরাটের ইলিশের কিছুটা শক্ত প্রকৃতির হয়। এর স্বাদ তুলনামূলকভাবে পানসে লাগে। রান্নার সময় পদ্মার ইলিশের মতো ঘ্রাণও পাওয়া যায় না।