র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে।
বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও বিলটি জনমত যাচাইয়ে পাঠানোর দাবির মধ্যেই র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি সংশোধিত আকারে পাশের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে পাশ হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এ আইনের ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং বাহিনীর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে উঠবে।
বিরোধী দলের সদস্যদের অভিযোগ, র্যাবের জনবল, সম্পদ, স্থাপনা ও সরঞ্জাম নতুন বাহিনীতে হস্তান্তরের মাধ্যমে মূলত নাম পরিবর্তন করে পুরোনো বাহিনীকেই নতুন কাঠামোয় রাখা হচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, র্যাব বিলুপ্ত করতেই বিলটি পাস করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর করা ছাড়া তা রক্ষা করার অন্য কোনো উপায় নেই।
২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অরডিন্যান্স’ সংশোধন করে র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল। নানা কর্মকাণ্ডে বাহিনীটি সমালোচিত হয়। এখন র্যাব বিলুপ্ত করতে ওই আইন থেকে সংশ্লিষ্ট অংশগুলো বাদ দিয়ে পৃথক এসআরবি আইন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অরডিন্যান্স’ রহিত করে নতুন এপিবিএন আইন করতেও আরেকটি বিল সংসদে পাস হয়েছে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ বিল-২০২৬ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল। সেদিনও বিলটি উত্থাপনে আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দল বলেছিল, এখন নতুন মোড়কে র্যাব পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতেও বিলটি নিয়ে আটটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেয় বিরোধী দল।