চিত্রশিল্পী ও পাপেট নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আইসিইউতে

চিত্রশিল্পী ও পাপেট নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার গুরুতর অসুস্থ চার দিন ধরে ঢাকার একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। মুস্তাফা মনোয়ারের দ্রুত আরোগ্য কামনায় সবার দোয়া চেয়েছেন তার স্ত্রী।

তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার বলেন, “উনি দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত ১৪ তারিখ (জুন) থেকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন।”

বিগত মাসগুলোতে কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে ৯১ বছর বয়সী মুস্তাফা মনোয়ারকে। গত ২০ মে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর জুনের ৫ তারিখে তিনি বাসায় ফেরেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।

মেরী মনোয়ার জানান, বাসায় ফেরার মাত্র ৩-৪ দিনের মাথায় মুস্তাফা মনোয়ারের শারীরিক অবস্থার আবার অবনতি ঘটে এবং ১৪ জুন আবারও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

“বাসায় আসার পর হঠাৎ করেই উনার অক্সিজেন লেভেল কমতে শুরু করে এবং ব্লাড প্রেশার ফল করে। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। তখন থেকেই আইসিইউতে আছেন।”

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরের শ্রীপুরে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম। তার বাবা কবি গোলাম মোস্তফার পৈত্রিক নিবাস ছিল ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে।

পাঁচ বছর বয়সে মুস্তাফা মনোয়ারের মা জমিলা খাতুন মারা যান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।

নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পড়াশোনা না করে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।

মুস্তাফা মনোয়ার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে। পরে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকও তিনি ছিলেন।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক পাওয়া এই শিল্পী বর্ণিল কর্মজীবনে আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৯০ সালে টিভি নাটকের জন্য টেনাশিনাস পদক, ১৯৯২ সালে চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে শিশু শিল্পকলা কেন্দ্র কিডস কালচারাল ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম কর্তৃক কিডস সম্মাননা পদক, ২০০২ সালে চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশক এবং পাপেট নির্মাণে অবদানের জন্য শিশুকেন্দ্র থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত দিন

Divider Icon
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...
শিরোনাম
উজিরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন সাগর-নদীতে আজ থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকার মারা গেছেন জলপরি দেখতে পুকুরপাড়ে ভিড়, জাল ফেলে মিলেছে সিলভার কার্প মাছ বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-এলাকা বন্ধ হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৬০ দেশের ১১ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের শঙ্কা জবিতে বিডিআরসিএসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ থানায় ‘তদবির করতে গিয়ে’ গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা উজিরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন সাগর-নদীতে আজ থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকার মারা গেছেন জলপরি দেখতে পুকুরপাড়ে ভিড়, জাল ফেলে মিলেছে সিলভার কার্প মাছ বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-এলাকা বন্ধ হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৬০ দেশের ১১ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের শঙ্কা জবিতে বিডিআরসিএসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ থানায় ‘তদবির করতে গিয়ে’ গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা