রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও বিআরটিসির একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ফরিদপুরে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাজী আব্দুল ওয়াহেদের ছোট ছেলে আলমগীর হোসেন (৫৮), বড় ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৬২) ও ছোট মেয়ে খুশি বেগম (৪৫) এবং জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৫০)। এছাড়া নিহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক কাউছার হোসেন (২৫)। তিনি মাদারীপুর সদরের শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে।
রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকা থেকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে একই পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে আসছিল। পথে শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশালগামী একটি বিআরটিসি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালকসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তাকে নিয়ে ভাইবোন ও ভাবি ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসক দেখাতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তারা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।