হয়রানি আর ভোগান্তির আরেক নাম বরিশালের গৌরনদী ভূমি অফিস। দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ অসংখ্য সেবা প্রত্যাশিদের। আশপাশের উপজেলাগুলোতে সহজভাবে ভূমি সেবা মিললেও গৌরনদীতে যেন তার উল্টো চিত্র।
জেলার একাধিক উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সব উপজেলার ১/১ (খ) খতিয়ানভুক্ত জমির কাগজপত্র সঠিক থাকলে আবেদনকারীর অনূকূলে নামজারি প্রদান করা হচ্ছে। তবে গৌরনদী ভূমি অফিসে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। কাগজপত্র সঠিক থাকলে (খ) তালিকাভুক্ত সম্পত্তির নামজারি দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার খামখেয়ালীপনায় মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরেও (খ তালিকাভুক্ত) সম্পত্তির নামজারি পাচ্ছেন না সেবা প্রত্যাশিরা। এনিয়ে সেবা প্রত্যাশিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও অধিক হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অন্তত চারজন সেবা প্রত্যাশি অভিযোগ করে বলেন, জমিক্রয়ের পর অজ্ঞাত কারনে তাদের জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত হয়ে যায়। সেই জমি নামজারির জন্য সকল বৈধ কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারি দিচ্ছেনা। আমাদের আবেদন বাতিলও করছেনা আবার নামজারিও দিচ্ছেনা। এভাবে মাসের পর মাস আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, বর্তমান এসিল্যান্ড একাধিকবার শুনানি নিয়েছে। শুনানিতে সকল কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু নামজারি দিচ্ছেনা। এসিল্যান্ডের হয়রানিতে আমরা অতিষ্ঠ।
একদিনের নামজারি সেবা বন্ধ: একাধিক ভূমি সেবা প্রত্যাশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সেবাকুঞ্জের মাধ্যমে একদিনে আবেদন, একদিনে নামজারি সেবা কার্যক্রম চালু ছিলো। ওই কর্মসূচি দেশব্যাপী আলোচিত হয়। এসিল্যান্ড মো. মেহেদী হাসান গৌরনদীতে যোগদানের পরপরই ওই সেবাটি বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের দাবী ওই সেবাটি আবার চালু করা হলে ভূমি সেবায় গতি আসবে।
এবিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির আব্দুল হালিমের কাছে বিগত এক বছরে কতটি খ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির নামজারি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। তিনি বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে গৌরনদী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, খ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির দুইটা নিয়ম যদি মালিকানার ধারাবাহিকতা থাকে তবে সেটা পেয়ে যাবে। মালিকানার ধারাবাহিকতা না থাকলেতো সেটা করতে পারবোনা। সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা এসিল্যান্ডের অন্যতম কাজ। এখন কেউ যদি সরকারি সম্পত্তিকে নিজের বলে দাবী করে সেটাতো আর এসিল্যান্ড দিতে পারবেনা।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ দেশবাংলাকে বলেন, সরকারি স্বার্থ না থাকলে সে গুলোতো নামজারি হওয়ার কথা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।