ভাইদের নামে জমি লিখে না দেওয়ায় বোন-ভগ্নিপতির ওপর অত্যাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে ভাইদের বিরুদ্ধে। ভাইদের অব্যাহত অত্যাচারে গত কয়েক দিন যাবত অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে বোন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ভুরঘাটা গ্রামের। অভিযুক্তরা হলেন- ওই গ্রামের নাসির আকন, এসকেন্দার আকন, সিদ্দিক মুন্সী, রিপন হাওলাদার, খলিল মোল্লা ও নজরুল আকন।
ওই গ্রামের মৃত তালেব আলী আকনের মেয়ে রানু বেগম (৪০) অভিযোগ করে বলেন, বাবা-মা অসুস্থ হওয়ার পর ভাইদের স্ত্রীরা বাবা-মায়ের সেবা না করায় ২০১৫ সালে বাবা-মায়ের সেবা করার জন্য স্বামী সহ আমাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন ভাইয়েরা। সেই থেকে বাবা-মা জীবিত থাকাকালীন পর্যন্ত আমি এবং আমার স্বামী বাবা বাবা-মায়ের সেবা করেছি।
২০২০ সালে আমার বাবা মারা যাওয়ার পূর্বে ভাইদের সম্মতিতে আমার নামে ৫৮ শতক জমি সাব-কবলা দলিল দিয়ে যায়। সেই থেকে আমি স্বামী-সন্তান নিয়ে আমার দলিলকৃত সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছি। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরপরই আমার জমির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পরে ভাইদের। তারা আমার জমি তাদের নামে লিখে দিতে অব্যাহত ভাবে চাপ প্রয়োগ শুরু করে। ওই জমির জন্য গত একমাস আগে আমাকে এবং আমার স্বামীকে মারধর করা হয়। এনিয়ে এলাকায় সালিশ মীমাংসায় হলেও কোন সুরাহা পাচ্ছিনা। উল্টো ভাইদের অত্যাচারে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ভাইদের অত্যাচারে আমি বাড়িতে যেতে না পারলেও আমার স্বামী বাড়িতেই থাকেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে আমার স্বামীকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয় ভাই নাসির আকন, এসকেন্দার আকন সহ তাদের সহযোগীরা।
পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশের সহায়তায় আমার স্বামীকে বসতঘরে উঠতে হয়েছে। ভাইদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী বোনের ভাই অভিযুক্ত নাসির ও এসকেন্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।