উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। ছোট বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে।
শনিবার সকাল থেকে উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। গত দুই দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় গভীর সমুদ্র মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলেরা শত শত ট্রলার নিয়ে মৎস্য বন্দর আলিপুর-মহিপুর আড়ৎ ঘাটে ফিরে এসেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঘনঘন ঝড়, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কবলে পরে নিঃস্ব হচ্ছে জেলে মৎস্যজীবীরা।
তারা বলেন, সমুদ্রে গিয়ে যখনই ইলিশ পাওয়ার আশায় জাল ফেলি, তখনই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পরে খালি হাতে ঘাটে ফিরে আসতে হয়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের পায়রাসহ চারটি সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সকল মাছ ধরা ট্রলার সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছেন সংস্থাটি।
জেলে আবুল মিয়া বলেন, এ বছর সমুদ্রে তেমন মাছ পাচ্ছি না। গত কয়েকদিন আগে সাগরে গিয়েছি। এর মধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়েছে। প্রচণ্ড ঢেউ, টিকে থাকই দায়। তাই জাল গুছিয়ে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছি।
অপর এক জেলে সৈয়দ মাঝি বলেন, বর্তমানে সাগরে অনেক বড় বড় ঢেউ। শুক্রবার সকাল গভীর সমুদ্র থেকে এসে আশাখালী মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে নোঙর করে আছি। তবে সাগর শান্ত হলে আবার তারা সাগরে রওনা করবেন বলে তিনি জানান।
মহিপুর মৎস্য আরব মালিক সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম জানান, সাগর উত্তাল থাকার কারণে অধিকাংশ ট্রলার ফিরে ফিরে এসেছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী সাংবাদিকদের জানান, লঘুচাপটি আরো ঘনভূত হতে পারে এবং সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এর ফলে উপকূলে বৃষ্টিপাত বাড়তে এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।