পিস্তল ও শটগানসহ খুলনায় সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান মো. আরমান হোসেন দিপু ওরফে আরমান ওরফে আরমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘শুটার আরমান’ নামে পরিচিত।
সোমবার সকালে র্যাব-৬ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গত ১৭ জুন খুলনার দৌলতপুরে মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আরমান। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুর, আড়ংঘাটা, খালিশপুর, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্ত্রের মহড়ার অভিযোগ রয়েছে আরমানের বিরুদ্ধে। আগে দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় সক্রিয় হুমা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে নিজেই গড়ে তোলেন আরমান বাহিনী। র্যাব বলছে, তাঁর নেতৃত্বাধীন গ্রুপে ৮ থেকে ১০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাবের তথ্যমতে, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি করত ওই গ্রুপ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, আরমানের অপরাধের পূর্ব-ইতিহাস (পিসিপিআর) পর্যালোচনায় খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি মামুন মোল্যা হত্যা, ২০২২ সালের ৩০ জুন মারজান মুন্না হত্যা এবং ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি ঘাউরা রাজিব হত্যা মামলা রয়েছে।
এছাড়া কালা রানা হত্যা মামলায় ভুক্তভোগীর মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ও তদন্তে আরমানকে সন্দিগ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাব। ১৯ মার্চ যুবদল নেতা রাশু হত্যা এবং ২৮ আগস্ট মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলার তদন্তেও তার নাম সন্দিগ্ধ হিসেবে এসেছে।