সরকারি হাসপাতালের আশেপাশে আর কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জনস্বার্থে নতুন করে সরকারি হাসপাতালের সামনে আর কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রয়েছে, সেগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান মানসম্মত সেবা প্রদানে ব্যর্থ হয় বা অনিয়ম করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও নতুন পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে এখানে ১০ জন রোগীকে একসঙ্গে ডায়ালাইসিস দেওয়ার সুবিধা, আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব এবং নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। এছাড়া গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথী এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত ফারজানা খানসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোতাহের হোসেন জাহাঙ্গীর এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম তারেকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।