গাজীপুরের শ্রীপুরে পান ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুই শিশু সন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর দুই সন্তানসহ চলন্ত বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ভুক্তভোগী নারী। এতে তার বড় ছেলে (৪) গুরুতর আহত হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার পানের আড়তসংলগ্ন একটি মসজিদের পাশে ওই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি জানাজানি হয়।
অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন (৩৫) নেত্রকোনার বাসিন্দা। তিনি মাওনা চৌরাস্তায় ভাড়া থেকে পানের ব্যবসা করেন।
ভুক্তভোগী নারী (২৮) বলেন, তিনি শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় ভাড়া থাকেন। প্রায় এক বছর আগে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। বাসা ভাড়া বকেয়া থাকায় গত মঙ্গলবার দুপুরে জৈনা বাজার এলাকার বাসা থেকে তাকে বের করে দেন বাড়ির মালিক। কোনো উপায় না পেয়ে চার ও দুই বছরের দুই ছেলেকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসেতুর নিচে ফুটপাতে আশ্রয় নেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে সোহরাব তাকে পানের আড়তসংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশু সন্তানের সামনে তাকে ধর্ষণ করেন তিনি। আতঙ্কিত দুই শিশুর ডাকচিৎকার ও কান্নাকাটিতেও থামেনি নির্যাতন।
তিনি আরো বলেন, একপর্যায়ে তাকে ফেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পানের আড়তে গিয়ে কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। গৌতম ও শহীদ নামে দুই পান ব্যবসায়ী ৫০০ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
বিচার না পেয়ে দুই সন্তানসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলন্ত বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগী নারী দাবি করেন, অভিযুক্ত পান ব্যবসায়ী থানা-পুলিশ বা অন্য কাউকে বিষয়টি না জানাতে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগ প্রকাশ করলে তার শিশুসন্তানদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তথ্য-আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।