পুরোনো পুকুরে জলপরি দেখা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় গত পাঁচ দিন ধরে পুকুর পাড়ে মানুষের ভিড় জমছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ঘটনাটিকে ঘিরে নানা ধরনের কল্পকাহিনিও প্রচার করছেন।
গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পুকুরটিকে ঘিরে শুরু হয় নানা ধরনের আয়োজন। কেউ পুকুরপাড়ে ভোগ দিচ্ছেন, কেউ পূজা করছেন। আবার কেউ কেউ পুকুরের পানি শরীরে মাখছেন বা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই পুকুরে কিছু পাওয়া যাবে এমন আশায় দীর্ঘ সময় ধরে পুকুরপাড়ে অবস্থান করছেন। এতে প্রতিদিনই সেখানে মানুষের ভিড় বাড়ছে।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের কবির আহমেদ ভূঁইয়ার (৪৫) প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো পারিবারিক পুকুরকে ঘিরে এ গুজব ছড়িয়েছে।
পুকুরের মালিক কবির আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, তাদের পারিবারিক পুকুরটিতে সিলভার কার্পসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। কয়েক দিন আগে পুকুরে সিলভার কার্প মাছ একসঙ্গে সাঁতার কাটার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ সেটিকে জলপরি হিসেবে প্রচার শুরু করে। এরপর গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পুকুরপাড়ে ভিড় করছেন।
তিনি বলেন, কেউ কেউ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নানা কাল্পনিক গল্প তৈরি করে প্রচার করছেন। এতে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। মানুষের অযাচিত ভিড়ের কারণে পুকুরের মাছের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
কবির আহমেদ ভূঁইয়া আরও বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ধরনের গুজব বন্ধ করে পুকুরপাড়ে মানুষের অযাচিত জমায়েত বন্ধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। এতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, কিছু ভুঁইফোড় মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে জলপরি পাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে যাচাই না করে নানা ধরনের কথা প্রচার করছেন এবং পুকুরটির সামনে ভিড় করছেন।
ইউএনও আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব না ছড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।