সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্তর একাধিক পোস্ট ঘিরে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘এসি ল্যান্ড জামালগঞ্জ’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করেছেন তিনি।
শুক্রবার অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়। প্রথম পোস্টে ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণি মোদক দায়ী থাকবে।’ কিছুক্ষণ পর আরেক পোস্টে ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার।’
ওই দিন রাতে ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ঘরোয়াভাবে পালিত অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন তিনি। জন্মদিনের কেক কাটার পর থেকে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এসিল্যান্ড শান্ত। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের গায়েও হাত তোলেন তিনি।
পরিবারের দাবি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্তর মানসিক সমস্যা দীর্ঘদিনের। অসুস্থতার বিষয়টি এত দিন পরিবারের মানুষদের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার রাতের ফেসবুক পোস্টের পর থেকে বিষয়টি সামনে আনতে বাধ্য হন তারা।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ ঘটনায় জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলীকে ফোন করেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক। পরে পুলিশ এসে তাঁকে ধরে বাসায় নিয়ে গেলে সেখানে কয়েকটি কাচের গ্লাস ভেঙে দৌড়ে দুই শিশু সন্তানকেও মারধর করেন তিনি।
একপর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল বাতেনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি এসে তাঁকে ঘুমের ইনজেকশন দেন। পরে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শনিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।
ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, রাতে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক, ওসি বন্দে আলী, সাচনা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান ও তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। এসিল্যান্ডের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁর মানসিক সমস্যার বিষয়টি তারা জানতে পারেন। এ সমস্যার কারণে তিনি মূলত অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং ফেসবুকে পোস্ট দেন।
তিনি আরও বলেন, রাতে ইউএনও এবং ওসির উপস্থিতিতে তাঁকে সিলেটে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হলেও প্রকৃত কারণ তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, ‘ইউএনও স্যার ফোন দিয়ে আমাকে এসিল্যান্ড মহোদয়ের অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়টি জানালে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা তাঁকে শান্ত করি। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেটে পাঠানো হয়।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্মদিনে এসিল্যান্ড সপরিবারে উপস্থিত থেকে কেকও কেটেছে। কেক কাটার কিছুক্ষণ পরে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয় তার। আমি দ্রুত থানার ওসি ও হাসপাতালের আরএমও সাহেবকে ফোন দেই।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘তার স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারলাম, এসিল্যান্ডের মানসিক সমস্যাটা পুরোনো। আঙ্কেলের (এসিল্যান্ডের বাবা) সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি আমাকে একই কথা বলেন। এ বিষয়টা আগে কেউ আমাকে জানায়নি। রাতে সিলেটে নেওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসিল্যান্ড সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরে আসুক এটাই একমাত্র চাওয়া আমার।’