গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, তার সম্পর্কে কুৎসা রটনার অপরাধে বগুড়ার দুই যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দুজনকে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এস এম তাসকিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর আসামি দু’জনকে আদালত পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন- আব্দুল করিম (২৩) ও সজিব পাইকার (২২)। আদালত আব্দুল করিমকে ৭ বছর এবং সজিবকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ওই গৃহবধূকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন আসামিরা। ঘটনার দিন রাতে প্রকৃতির ডাকে গৃহবধূ ঘরের বাইরে গেলে তারা সু-কৌশলে শয়নকক্ষে ঢুকে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকেন। পরে তিনি ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করার পর আসামিরা চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই গৃহবধূর নামে গ্রামে কুৎসা রটান এবং তার কৃত্রিম ছবি তৈরি করে স্বামীর মোবাইলে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোজাম্মেল হক ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুর রাজ্জাক মনি। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আব্দুল মন্নাফ ও জহুরুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি মোজাম্মেল হক বলেল, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বিদেশ থাকায় আসামিরা এই সুযোগ নেয়। ধর্ষণ করতে না পেরে ওই গৃহবধূর সম্পর্কে বিভিন্ন কুৎসা রটানোর চেষ্টা করে। মামলার শুনানিতে এসব বিষয় প্রমাণিত হয়েছে।