বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি ও ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে আইনি ও দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা, ২০১৬ সালে গাজীপুরের পাতারটেকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় প্রায় ৪১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জর্জরিত সাবেক ডিবি হারুন অর রশীদ।
গতকাল শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে গুলি করে হত্যার অভিযোগে সারাদেশে ৯৫২ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭১টি মামলার একক আসামি হলেন হারুন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের জয়দেবপুরে মাদরাসাপড়ুয়া সাতজনকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যার অভিযোগ।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত বিচারবহির্ভূত হত্যা ছিল, যার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামে। এই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং আগামী ১৭ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করা আছে।
এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছয় সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখা ও ছবি প্রকাশের ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল-২ এ গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠিত হয়।
এই মামলায় হারুন ও ওবায়দুল কাদেরের একটি ফোনালাপের প্রতিলিপি আদালতে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন, যেখানে হারুন দাবি করেন যে ওই সিদ্ধান্ত এককভাবে তার ছিল না, বরং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এসবি প্রধানের নির্দেশ ছিল।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুদক হারুন, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার এবং ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে প্রায় ৪১ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা করে। পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর দুদক দুটি মামলায় প্রায় ৩৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগপত্র অনুমোদন করে।
তদন্তে হারুনের নিজের নামে প্রায় ১৯ কোটি ৯৮ লাখ এবং তার ভাইয়ের মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৮ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য উঠে আসে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট হারুন ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। এছাড়া কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে তার মালিকানাধীন রিসোর্টে এনবিআর অভিযান পরিচালনা করে।