বাধ্যতামূলক শ্রমের অজুহাত তুলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক বহাল রেখেছে। একটি অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর আওতায় দেশভেদে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যই সরাসরি প্রভাবিত হবে।
কার ওপর কত শুল্ক
১০ শতাংশ শুল্ক বহাল: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, কম্বোডিয়া ও গুয়াতেমালাসহ যেসব দেশ বাধ্যতামূলক শ্রম প্রতিরোধে আইন বা অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে, তাদের পণ্যে আগের ১০ শতাংশ শুল্কই বহাল রাখা হয়েছে।
সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক: অন্যদিকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রায় ৩৮টি দেশের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত ট্রানজিটে থাকা পণ্যগুলো এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া তেল-গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য ও ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তির শর্তপূরণকারী পণ্যগুলো আগের মতোই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন দেশ ও বিশ্লেষকরা। টেক্সাসের বেকার ইনস্টিটিউটের পরিচালক জন ডায়মন্ড সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০টি বড় দেশ তাদের পণ্য তৈরিতে জোর করে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি আসলে বিশ্বাসযোগ্য নয়, বরং হাস্যকর। তবে আমার মনে হয় না আদালত আগের মতো এবারও এই শুল্ক বাতিল করবেন।
বাধ্যতামূলক শ্রমের অজুহাত দেওয়া হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা একে সম্পূর্ণ ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে কানাডা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে বাইরের দেশের পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের শিল্প বাঁচাতে চাইছে। এজন্যই তারা আইনের নানা কৌশল ব্যবহার করে বিদেশি পণ্যের ওপর এই শুল্ক ধরে রেখেছে। ইতোমধ্যে আরও ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে ভবিষ্যতে শুল্কের আওতা আরও বাড়তে পারে।