যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রের এক নতুন সমীকরণ ঘোষণা করেছে ইরান। মার্কিন বাহিনীকে বিনামূল্যে নরকে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি।
ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া হেডকোয়ার্টার্স’-এর এই কমান্ডার বলেছেন, মার্কিন হামলায় নিহত প্রতিটি ইরানি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর বিপরীতে একজন করে মার্কিন সেনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তেহরান আগে যে নীতি নির্ধারণ করেছিল, তা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনায় পরিণত হয়েছে। এটি একটি কার্যকর সামরিক কৌশল বা ‘অপারেশনাল ডকট্রিন’।
এদিকে ইরানজুড়ে টানা ১৩তম রাতের মতো মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসন চলাকালে এই সতর্কবার্তাটি এল। এসব হামলায় সেতু ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫৫ জন নিহত এবং ৬৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এর আগে ‘ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং ইরানি সেনাবাহিনী কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরবিলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থানরত ঘাঁটিগুলোতে পৃথক হামলার ঘোষণা দেয়।
যেসব দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেসব দেশের বাসিন্দাদের প্রতি আইআরজিসি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা মার্কিন বাহিনীর অবস্থানস্থল থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে সরে যান; একইসঙ্গে তারা আরও হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন স্বীকার করেছে, জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন এবং ইরাকে আরও একজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।