জাপানে ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ২৮, চলছে উদ্ধার অভিযান

শক্তিশালী ভূমিকম্পে জাপানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পের দুই দিন পরও ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার নতুন করে এ তথ্য জানিয়েছে।

জাপান সরকারের মুখপাত্র মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের জানান, ভূমিকম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর তদন্তাধীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে বর্তমানে মৃতের সংখ্যা ২৮।

মঙ্গলবার বিকেলে দেশটির কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রিফেকচারে আঘাত হানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্প। জাপানের স্থানীয় ভূমিকম্প মাপার সাত স্তরের স্কেলে কয়েকটি এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পে ব্যাপক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রেল ও বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। অনেক এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে এবং জরুরি সেবাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করছে। কুমামোতো অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কাশিমার একটি শপিং মলে ভূমিকম্পের পর গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ইয়াতসুশিরোর একটি কাগজ কারখানায় চিমনি ধসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য একটি কারখানায় ক্রেনের আঘাতে এক ভিয়েতনামি কর্মী নিহত হন।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রচণ্ড গরম, আর্দ্র আবহাওয়া এবং পরপর আফটারশকের কারণে উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রায় ৩৪ হাজার ৯০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং প্রায় ১৫ হাজার বাড়িতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর আরিয়াকে সাগর এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১ মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সতর্কতা শিথিল করা হয়।

জাপানের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা কম্পনের তীব্রতা বাড়িয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ আরও ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন (আফটারশক) ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

২০১৬ সালেও কুমামোতো ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছিল। এবারও উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের দ্রুত খুঁজে বের করা।

সূত্র: গালফ নিউজ

আপনার মতামত দিন

Divider Icon
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...
শিরোনাম
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত চার, বিদ্যুৎহীন ৬ লাখ মানুষ ঢাকা থেকে চার দিনে সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট বাতিল পানামায় আবারও ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে ড. ইউনূস দুর্গাপূজায উপলক্ষে ৩ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্ট সারাদেশে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশ সারা দেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু সৌদির আকাশপথে অচলাবস্থা, ৯৯.৭% ফ্লাইট বাতিল ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত চার, বিদ্যুৎহীন ৬ লাখ মানুষ ঢাকা থেকে চার দিনে সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট বাতিল পানামায় আবারও ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে ড. ইউনূস দুর্গাপূজায উপলক্ষে ৩ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্ট সারাদেশে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশ সারা দেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু সৌদির আকাশপথে অচলাবস্থা, ৯৯.৭% ফ্লাইট বাতিল