পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও এর পরবর্তী আফটার শকে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটানো ভূমিকম্পের পর এটিই ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প বলে জানানো হয়েছে।
দেশটির ক্যাবিনেট সেক্রেটারি টেডি ইন্দ্রা উইজায়া জানিয়েছেন, ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া সরকারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিধসের কারণে নিখোঁজদের বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ২০টি পেট্রল স্টেশনও কার্যক্রম চালাতে পারছে না বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেরতামিনা।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের এলাকাটি ১৯৯২ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে আক্রান্ত হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল। টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষের কারণে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এই দেশে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।