ইরানের সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো নারী এই কাজ করতে পারলে তাঁকে দেওয়া হবে দ্বিগুণ পুরস্কার। গতকাল রোববার ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এ ঘোষণা দেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ–এর (ইরনা) বরাত দিয়ে লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাত জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তায় অংশ নেওয়ার জন্য ‘বিপুলসংখ্যক অনুরোধ’ পাওয়ার পর এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
হাতামি বলেন, ‘যে কেউ কোনো আগ্রাসী মার্কিন সামরিক সদস্যকে হত্যা বা আটক করে ইরানের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করলে তাকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৫ বিলিয়ন তুমান সমপরিমাণ পুরস্কার দেওয়া হবে।’ ইরানে প্রচলিত অনানুষ্ঠানিক মুদ্রা একক ‘তুমান’কে তিনি ১০ হাজার ইরানি রিয়ালের সমপরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সাহসী কোনো ইরানি নারী যদি এমন কাজ করেন, তাহলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।’তবে এই পুরস্কার ঘোষণার পরও ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনীর সদস্যদের কোনো পরিচিত মোতায়েনের খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানের মাটিতে মার্কিন স্থলবাহিনীর সদস্য মোতায়েনের একমাত্র জানা ঘটনা হলো এপ্রিলে একটি মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযান। ওই পাইলটের বিমান ভূপাতিত হয়েছিল।
মার্কিন সেনাদের কোথায় বা কখন হত্যা কিংবা আটকের চেষ্টা করা হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি হাতামি।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ভোর বেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। প্রায় ৪০ দিন ধরে লড়াই চলার পর এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়।
এরপর জুনে শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হলেও পরে তা ভেঙে পড়ে। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সংঘর্ষের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকা।