মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও ভেসে বেড়াচ্ছে বারুদের গন্ধ। যুক্তরাষ্ট্র আর তেহরানের হামলা-পাল্টা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিনত হচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো।
গত কয়েকদিন ধরে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির হামলায় কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে তেল খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি স্থাপনাটিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে শনিবার সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। প্রায় চার মাসের মধ্যে সৌদি আরবে এটি ইরানের প্রথম হামলা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এ তথ্য জানান। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে ওই পোস্টে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে সংবাদ প্রকাশ করে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
এর আগে সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলায় বহু মার্কিন সেনা নিহত হবার দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের ইরানশাহর শহরে ইরানি সেনাদের ব্যারাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
বাহরাইনেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। হামলায় মার্কিন বাহিনীর জল-ড্রোন ডিপো এবং মেইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেন্টার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ফের ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করে— তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের যত বেসামরিক স্থাপনা আছে— সবগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে আইআরজিসি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে তারা। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমাতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।