এক মাস ১২ দিন বয়সী সন্তানের মা ঐশি আক্তারকে (২৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সোহেল খানের বিরুদ্ধে। বরিশালের বাবুগঞ্জের এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী সোহেল ও তার ছোট ভাই তানভীর খান ইমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকাল ৭টার দিকে ঐশিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত ঐশি আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। তাঁর স্বামী সোহেল খান একই উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের কাদের খানের ছেলে।
নিহতের চাচা সোহেল হাওলাদার জানান, প্রায় এক বছর দুই মাস আগে ঐশি ও সোহেলের বিয়ে হয়। দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর সোহেল তাঁর তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে চার-পাঁচ দিন আগে ঐশিকে মারধর করেন সোহেল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহেল হাওলাদারের দাবি, মারধরের পর ঐশি অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। গ্রাম্য চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়িতে রাখা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। পরে সোমবার সকালে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে নেওয়ার অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আগেই ঐশির মৃত্যু হয়েছিল। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঐশির মা নেই এবং বাবা অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী। তাঁর এক মাস ১২ দিন বয়সী শিশুটিকে আপাতত অন্য একজনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে আসামি করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতের স্বামী ও তাঁর ভাইকে হেফাজতে নেয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।