বিদ্যুৎ বিল বাড়াচ্ছে ফ্রিজের যে ২ ভুল সেটিংস

অনেকেই মনে করেন, ফ্রিজের ঠান্ডা যত বেশি হবে, খাবার তত ভালো থাকবে। কেউ আবার গরমের সময় কুলিং কন্ট্রোল সর্বোচ্চ স্তরে রাখেন। কিন্তু সব সময় এমন করার প্রয়োজন নেই। ফ্রিজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস সঠিকভাবে ব্যবহার করলে খাবার নিরাপদ রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। তবে শুধু সেটিংস বদলালেই হবে না, দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে।

ফ্রিজের যে ২ ভুল সেটিংস বাড়াতে পারে বিদ্যুৎ বিল

১. ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে কমিয়ে রাখা

ফ্রিজের তাপমাত্রা যত কম, খাবার তত ভালো থাকবে এমন ধারণা ঠিক নয়। খাবার নিরাপদ রাখতে রেফ্রিজারেটরের ভেতরের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা উচিত।

অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও ফ্রিজের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে রাখেন। এতে ফ্রিজকে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে বেশি কাজ করতে হতে পারে, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতে পারে। তাই ফ্রিজে ১ থেকে ৫ কিংবা ১ থেকে ৭ পর্যন্ত সংখ্যা থাকলে সেগুলোকে সরাসরি তাপমাত্রা হিসেবে ধরে নেবেন না। সংখ্যাগুলোর অর্থ মডেলভেদে আলাদা হতে পারে। প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন এবং সম্ভব হলে থার্মোমিটার দিয়ে ভেতরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।

২. কুলিং কন্ট্রোল সব সময় সর্বোচ্চ স্তরে রাখা

ফ্রিজের কুলিং কন্ট্রোল বা ঠান্ডা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ঠিকভাবে ব্যবহার না করাও বিদ্যুৎ খরচের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, কুলিং কন্ট্রোল সর্বোচ্চ স্তরে রাখলে খাবার দ্রুত ঠান্ডা থাকবে এবং ফ্রিজ ভালো কাজ করবে। কিন্তু সব পরিস্থিতিতে এমন সেটিং প্রয়োজন হয় না।

প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঠান্ডা তৈরি করতে গেলে কিছু ফ্রিজে কম্প্রেসরকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এর প্রভাব ফ্রিজের ধরন, মডেল, ঘরের তাপমাত্রা ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুযায়ী উপযুক্ত সেটিং নির্বাচন করুন। সেটিং পরিবর্তনের পর ভেতরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল হতে কিছুটা সময় দিন।

শুধু সেটিং বদলালেই হবে না, মানতে হবে আরও কয়েকটি নিয়ম

ফ্রিজের তাপমাত্রা ও কুলিং কন্ট্রোল ঠিক রাখার পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু অভ্যাসও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিচের ১২টি বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি।

১. বারবার ফ্রিজের দরজা খুলবেন না

ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা পানি নেয়া, খাবার খোঁজা কিংবা কী রান্না হবে তা ঠিক করতে গিয়ে অনেকেই দরজা দীর্ঘক্ষণ খুলে রাখেন। এতে বাইরের উষ্ণ বাতাস ভেতরে প্রবেশ করে। নির্ধারিত তাপমাত্রা ফিরিয়ে আনতে ফ্রিজকে তখন বাড়তি কাজ করতে হতে পারে। তাই ফ্রিজ খোলার আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসটি ঠিক করে নিন।

২. গরম খাবার রাখবেন না

চুলা থেকে নামানো গরম খাবার সরাসরি বড় পাত্রে ফ্রিজে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে খাবার ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখাও নিরাপদ নয়। রান্না করা খাবার ছোট, অগভীর পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ফ্রিজে রাখুন। সাধারণত রান্না করা খাবার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখা উচিত। পরিবেশের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এক ঘণ্টার মধ্যে রাখতে হবে।

৩. ফ্রিজের চারপাশে ফাঁকা জায়গা রাখুন

ফ্রিজ দেয়ালের একেবারে গায়ে ঠেসে রাখলে তাপ বের হওয়ার ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। ফলে যন্ত্রটির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফ্রিজের পেছনে ও পাশে কতটা জায়গা রাখতে হবে, তা মডেল অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা দেখে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখুন।

৪. খাবার গাদাগাদি করে রাখবেন না

ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত খাবার গুঁজে রাখলে ঠান্ডা বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে সব খাবার সমানভাবে ঠান্ডা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। খাবারের পাত্রগুলোর মধ্যে কিছুটা জায়গা রাখুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। আবার ফ্রিজ একেবারে খালি রাখারও প্রয়োজন নেই।

৫. চুলা বা সরাসরি রোদের পাশে ফ্রিজ রাখবেন না

চুলা, ওভেন কিংবা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন স্থানে ফ্রিজ রাখলে এর চারপাশের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে ভেতরের খাবার ঠান্ডা রাখতে কম্প্রেসারকে বেশি সময় কাজ করতে হতে পারে। তাই ফ্রিজ এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে সরাসরি তাপ পড়ে না এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে।

৬. দরজার রাবারের সিল পরীক্ষা করুন

ফ্রিজের দরজার রাবার বা সিল ঢিলা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে ফ্রিজকে বেশি কাজ করতে হয়। দরজা ঠিকমতো বন্ধ হচ্ছে কি না এবং সিলে কোনো ফাঁক তৈরি হয়েছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে কারিগরের সাহায্যে সিল মেরামত বা পরিবর্তন করান।

৭. ফ্রিজের কয়েল ও বাতাস চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখুন

ফ্রিজের নকশা অনুযায়ী পেছনে বা নিচে থাকা কয়েলে ধুলা জমলে তাপ বের হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এতে ফ্রিজের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েল ও বাতাস চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখুন। পরিষ্কারের আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।

৮. দ্রুত ঠান্ডা করার ব্যবস্থা অপ্রয়োজনে চালু রাখবেন না

অনেক ফ্রিজে দ্রুত ঠান্ডা করা বা দ্রুত বরফ তৈরির বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। নতুন কেনা খাবার ঠান্ডা করা কিংবা দ্রুত বরফ তৈরির জন্য এগুলো কাজে লাগে। তবে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও বিশেষ ব্যবস্থা চালু থাকলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে। তাই ফ্রিজের নির্দেশিকা অনুযায়ী এ সুবিধা ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজন শেষে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।

৯. ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমলে ব্যবস্থা নিন

পুরোনো ধরনের ফ্রিজে ফ্রিজারের ভেতরে অতিরিক্ত বরফ জমলে জায়গা কমে যেতে পারে এবং কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী বরফ সরান। তবে স্বয়ংক্রিয় বরফমুক্ত করার ব্যবস্থা থাকা ফ্রিজে সাধারণত নিজে থেকে বরফ সরানোর প্রয়োজন হয় না। বরফ তুলতে ছুরি বা ধারালো কোনো বস্তু ব্যবহার করবেন না। এতে ফ্রিজের ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১০. ফ্রিজের বয়স ও বিদ্যুৎ খরচের দিকে নজর দিন

পুরোনো ফ্রিজে সময়ের সঙ্গে যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ফলে একই পরিমাণ ঠান্ডা বজায় রাখতে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ লাগতে পারে। বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে তাপমাত্রা, দরজার সিল, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং কম্প্রেসারের কার্যক্রম পরীক্ষা করান।

১১. ফ্রিজের ভেতরের খাবার নিয়মিত গুছিয়ে রাখুন

ফ্রিজে খাবার এলোমেলোভাবে রাখলে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে দরজা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখতে হতে পারে। এতে বাইরের উষ্ণ বাতাস ভেতরে ঢোকে। খাবার নির্দিষ্ট জায়গায় গুছিয়ে রাখুন এবং পুরোনো খাবার আগে ব্যবহারের পরিকল্পনা করুন। এতে খাবার খুঁজতে কম সময় লাগবে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে দরজা খোলা রাখার প্রবণতাও কমবে।

১২. দরজা বন্ধ করার পর ঠিকমতো আটকে আছে কি না দেখুন

অনেক সময় খাবারের প্যাকেট, বোতল কিংবা পাত্র দরজার সঙ্গে আটকে থাকায় ফ্রিজ পুরোপুরি বন্ধ হয় না। এতে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে। দরজা বন্ধ করার পর সেটি ঠিকমতো আটকে আছে কি না দেখে নিন। দরজা বন্ধ করতে বাধা দেয় এমন পাত্র বা খাবার সরিয়ে রাখুন।

বিদ্যুৎ বিল কমাতে মনে রাখুন

ফ্রিজের তাপমাত্রা ও কুলিং কন্ট্রোল সঠিকভাবে ব্যবহার করার পাশাপাশি এসব অভ্যাস মেনে চললে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু দুটি সেটিংস বদলালেই বিদ্যুৎ বিল নির্দিষ্ট হারে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সাশ্রয়ের পরিমাণ ফ্রিজের বয়স, মডেল, ঘরের তাপমাত্রা এবং ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)

আপনার মতামত দিন

Divider Icon
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...
শিরোনাম
এমপি গাজী নজরুলের জামিন মেলেনি বিদ্যুৎ বিল বাড়াচ্ছে ফ্রিজের যে ২ ভুল সেটিংস সাজেক সড়কের অবরোধ প্রত্যাহার, যান চলাচল স্বাভাবিক হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৭৩ বিমানবন্দরে অপেক্ষায় আড়াই হাজার যাত্রী, কর্মস্থলে ফেরা অনিশ্চিত নন-ক্যাডার ২০ জন সহকারী সচিবকে পদোন্নতি সৌদির বিমানবন্দ‌রে হামলায় নিহত ২ বাংলা‌দে‌শির প‌রিচয় মিলেছে কারাগারের জেলার বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন শতাধিক, আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁই চাকা ফেটে উল্টে গেল যাত্রীবাহি বাস, আহত ৭ এমপি গাজী নজরুলের জামিন মেলেনি বিদ্যুৎ বিল বাড়াচ্ছে ফ্রিজের যে ২ ভুল সেটিংস সাজেক সড়কের অবরোধ প্রত্যাহার, যান চলাচল স্বাভাবিক হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৭৩ বিমানবন্দরে অপেক্ষায় আড়াই হাজার যাত্রী, কর্মস্থলে ফেরা অনিশ্চিত নন-ক্যাডার ২০ জন সহকারী সচিবকে পদোন্নতি সৌদির বিমানবন্দ‌রে হামলায় নিহত ২ বাংলা‌দে‌শির প‌রিচয় মিলেছে কারাগারের জেলার বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন শতাধিক, আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁই চাকা ফেটে উল্টে গেল যাত্রীবাহি বাস, আহত ৭