কোরআনে ভাষার বৈচিত্র্য ও বহুভাষিকতা নিয়ে স্লোভাকিয়ার একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন পোল্যান্ডের ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. আব্দুল আউয়াল। তিনি ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় ও আফ্রিকান সংস্কৃতি অনুষদের দক্ষিণ এশীয় অধ্যয়ন বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভাষা, ক্ষমতা, সংস্কৃতি ও বহুভাষিকতা।
জানা গেছে, গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর স্লোভাকিয়ার কোশিৎসে শহরের পাভল ইয়োজেফ শাফারিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘মাল্টিলিঙ্গুয়াল অ্যান্ড মাল্টিকালচারাল লার্নিং: পলিসিজ অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস’ শীর্ষক পঞ্চম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সেখানে শিক্ষক ও গবেষক ড. আব্দুল আউয়াল তার গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। যার শিরোনাম ছিল ‘Does the Qur’an Uphold Linguistic Exclusivism or Multilingualism?’।
আন্তর্জাতিক ওই সম্মেলন কর্মসূচিতে বহুভাষিকতা ও ভাষা শিক্ষা গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- ইউনিভার্সিটি অফ কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক লি ওয়েই ও অধ্যাপক ঝু হুয়া, অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এলিজাবেথ লানজা, ওরানিম একাডেমিক কলেজ অব এডুকেশনের অধ্যাপক মিলা শোয়ার্টজ, কিমেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুলদিজ স্মাগুলোভা এবং ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মাল্টিলিংনেটের প্রতিষ্ঠাতা পিওতর রোমানফস্কি।
স্লোভাকিয়ায় অনুষ্ঠিত সম্মেলণে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে গবেষক ড. আব্দুল আউয়াল আলোচনা করেন, কোরআন কি একটি ভাষাকেই একক প্রাধান্য দিয়েছে, নাকি একাধিক ভাষার স্বীকৃতি ও ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান করে। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কোরআনের নির্বাচিত আয়াত এবং সেগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষক ড. আব্দুল আউয়াল বলেন, কোরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে সেই অঞ্চলের মানুষেরা কোরআনের অর্থ বুঝতে পারে। তবে এই বিশেষ অবস্থান থেকে আরবিকে একমাত্র গ্রহণযোগ্য ভাষা কিংবা অন্য ভাষার গুরুত্ব বা প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনুবাদ ও বিভিন্ন ভাষায় ব্যাখ্যার মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের মতো যেসব দেশের মানুষের মাতৃভাষা আরবি নয়, সেসব দেশের জন্য এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক। আরবির ধর্মীয় মর্যাদা বজায় রেখেও বাংলায় ধর্মীয় পাঠের অর্থ বোঝা, ব্যাখ্যা করা ও শেখানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মাতৃভাষায় ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে গবেষণাটি।