দুর্ঘটনা, ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে কুমিল্লার চারটি মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।
ভোগান্তিতে থাকা মহাসড়কগুলো হলো— ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক।
যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের। ঈদকে সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বুধবার থেকে টানা তিনদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া বা নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব কুমিল্লার দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জ ও চান্দিনা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া চান্দিনা, নিমসার, সুয়াগাজী ও চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় অবৈধ পার্কিং যানজট আরও বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যদিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কংশনগর বাজারে অবৈধ পার্কিং, সড়কের ওপর বাজার বসানো, দেবিদ্বারের পান্নারপুল এলাকায় সংস্কার কাজ এবং কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় যানজটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মুদাফরগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় সড়ক দখল করে রাখা যানবাহনের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। একইভাবে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগমারা বাজারেও দিন-রাত যানজট লেগেই থাকছে। সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন সড়ক দখল করে রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের যাত্রী মীর ফজলে রাব্বী বলেন, মুদাফফরগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ এলাকায় সড়ক থেকে দোকান ও অবৈধ পার্কিং সরানো গেলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে।
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের যাত্রী জাহাঙ্গীর লিটন বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে পান্নারপুল এবং কংশনগর এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। এই দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও এরপরই দীর্ঘ যানজটের মুখে পড়তে হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম খান বলেন, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পরিবহন মালিক সমিতির স্বেচ্ছাসেবক ও স্কাউট সদস্যরাও সহযোগিতা করছেন। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।