বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ায় মাসুদ হাসান ফিরোজ নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার ( ৪ জুন) বেলা ১১ টায় গুঠিয়ার বালাবাড়ি কীর্ত্তন আঙ্গিনায় জমি দখলের অভিযোগে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
অভিযুক্ত মাসুদ হাসান ফিরোজ চরমোনাই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর উজিরপুর উপজেলা শাখার মুজাহিদ কমিটির সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অসিম কুমার দাস, সুব্রত কুমার দাস ও সুশান্ত কুমার দাস লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জানান, জেএল-১০৭ নং গুঠিয়া মৌজায় এসএ ৪২ নং খতিয়ানের এসএ ৪০৮ নং দাগে মোট ১১ শতাংশ জমি আমরা পৈত্রিক সুত্রে ওয়ারিশ মূলে মালিক হই। উক্ত জমি তৎকালীন স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে আওয়ামী লীগের দোসরদের দাপটে অভিযুক্ত মাসুদ হাসান ফিরোজ জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করছে।
তারা আরও বলেন, স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে শালিস বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ফিরোজ নানা তালবাহানা করে শালিস মিমাংসার বৈঠক পন্ড করে দেয় এবং আমাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এমনকি গত ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পরে লোকজন ভাড়া করে আমাদের স্ব-পরিবারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়।
এরপর কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ফিরোজের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জমি দখলের বিষয়টি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহিন হাওলাদার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাভলু হোসেনকে অবহিত করলে তাদের হস্তক্ষেপ ও মানবিকতায় বর্তমানে আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছি। মূলতঃ আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় ওই ভূমিদস্যু ফিরোজ এর হুমকির মুখে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। মূর্তীয়মান আতঙ্কের নাম ভূমিদস্যু ফিরোজ। অন্যের জমি দখল করা তার নেশা ও পেশা। তার উৎপাতে আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অতিষ্ঠ।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভূমিদস্যু ফিরোজ এর কবল থেকে জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সংখ্যালঘু পরিবার।
এদিকে অভিযুক্ত মাসুদ হাসান ফিরোজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।