লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখার দখল নিয়ে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই হচ্ছে।
চলমান এই লড়াইয়ে মাত্র তিন দিনে দেড় শতাধিকের বেশি সেনা ও হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে আজ শনিবারই ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর তিনটি সূত্র বলেছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার টানা লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৬ সেনা নিহত হয়েছেন। অপরদিকে হাসপাতাল ও সামরিক সূত্র ৩১ হুতি বিদ্রোহী নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাইজ শহরে হুতিদের মিসাইল হামলায় ছয় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও সাতজন। তারা সবাই বাসে করে যাচ্ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার থেকে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে এ লড়াই শুরু হয়। যা এখনো চলছে। হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশের অর্ধেক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। অপরদিকে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বাকি অর্ধেক অংশ।
হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করে ইরান। আর ইয়েমেনের সরকারের পক্ষে রয়েছে সৌদি আরবসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ।
এদিকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকার বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তারা ড্রোন ব্যবহার করে সফলভাবে দুটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রথমটি সৌদি শত্রুপক্ষের সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু নাজরান বিমানবন্দরে এবং দ্বিতীয়টি নাজরানের আরামকো স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেছে, গত মাসে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি ইরানি বিমানকে স্বাগত জানায় হুথি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তীতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় হুথিরা এবং দেশটির জাহাজ, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে শুরু করে।