ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের সপ্তাহান্তের প্রাণঘাতী হামলার পর রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেদ্দার পর সৌদি আরবের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
শনিবারের হামলার পর থেকে বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। রোববার আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং প্রায় এক ডজন মানুষ আহত হন।
বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের (Cirium) তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করা হয়। ফ্লাইটরাডার২৪-এর (Flightradar24) বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় শহরটির আকাশে কোনো উড়োজাহাজ দেখা যায়নি।
এই বিঘ্নের কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন এয়ারলাইন তাদের পরিষেবা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবে বা দেশটির আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। রোববার মার্কিন এয়ারলাইনগুলোকে এ পরামর্শ দেয়া হয়।
লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে, এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম সৌদি রাজধানীতে যাওয়া-আসার ফ্লাইট স্থগিত রাখার আগের সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়িয়ে মাসের শেষ পর্যন্ত করেছে।
আবুধাবিভিত্তিক ইতিহাদ এয়ারওয়েজও সৌদি আরবে ফ্লাইট বাতিলের মেয়াদ আরও বাড়ানো এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর ফলে সোমবার ও মঙ্গলবার রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামে যাওয়া-আসার প্রায় ২০টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।
এদিকে হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় এর বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেলের কার্যক্রম কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে চলতি বছর সৌদি আরবের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
হামলার কারণে চলতি মাসে রিয়াদে নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলোও চাপে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের প্রধান বিনিয়োগ সম্মেলন এবং ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেস। এসব অনুষ্ঠানের কর্মসূচি থেকে কয়েকজন শীর্ষ তেল নির্বাহীর নাম বাদ দেয়া হয়েছে।