কেনিয়ার শাকাহোলা বনে ধর্মীয় উগ্রবাদের নামে ভয়াবহ অনাহার ও মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পল ম্যাকেঞ্জি এবং তার ২৯ জন সহযোগীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। ‘গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চ’-এর এই নেতার বিরুদ্ধে ১৯০ জন শিশুসহ অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছিল।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আগামী ৬ নভেম্বর এই মামলার সাজা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কেনিয়ার শাকাহোলা বন থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এখন পর্যন্ত ওই বনভূমি থেকে ৪০০টিরও বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, পল ম্যাকেঞ্জি তার অনুসারীদের এই বলে প্ররোচিত করেছিলেন যে, পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগেই তাদের স্বর্গে যেতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি অনুসারী ও শিশুদের খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা শুনানিতে বিচারক ডায়ানা কাভেদজা মোচাচে উল্লেখ করেন যে, অনেক শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের উপস্থিতিতেই পরিকল্পিতভাবে খাবার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তবে পল ম্যাকেঞ্জি শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তিনি কাউকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করেননি। যদিও আদালত তার এই সাফাই গ্রহণ করেননি। ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী লরেন্স ওবোনিও জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
এই ঘটনায় নিজের পরিবারের আট সদস্যকে হারানো ৬২ বছর বয়সী ফ্রান্সিস ওয়াঞ্জে আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার প্রতি তার আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে কর্তৃপক্ষ ম্যাকেঞ্জির গির্জা বন্ধ করে দিলে তিনি শাকাহোলা বনে আস্তানা গাড়েন। ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর ওই বনাঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গণকবরের সন্ধান পান তদন্তকারীরা।
শাকাহোলা বনের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেনিয়ায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। পল ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র এই মামলাই নয়, বরং সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট আরও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি কোয়া বিনজারো গ্রামে ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায়ও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।