স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ধসে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে এমন ভয়াবহ চিত্র। ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ হতে চললেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত বুধবার সন্ধ্যায় দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস। এ পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। গত একশ বছরের মধ্যে এটি ভেনেজুয়েলায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প।
সবশেষ ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্লাইবার মোরান নামের তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল তাকে উদ্ধার করেছে। শিশুটিকে উদ্ধার করার এই ঘটনা দেশজুড়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, শিশু ক্লাইবারের উদ্ধার প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষ থাকার আশা শেষ হয়ে যায়নি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই লাশের দুর্গন্ধ বের হওয়া শুরু করে। এখন ভেঙে পড়া ভবনের চারপাশে দুর্গন্ধ তীব্র হচ্ছে। তবে যাদের প্রিয়জন সেসব ধ্বংসস্তূপে আছেন তারা এই দুর্গন্ধের পরও সরে যাননি। তারা ধ্বংসস্তূপের পাশেই অবস্থান করছেন। প্রিয়জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় কি না সেই আশায় আছেন।