লালমনিরহাটের ২ উপজেলায় সারের সংকট ও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। এ সময় একটি ভ্যান থেকে ১০ বস্তা সার আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে এক ডিলারকে আটক করে তার গোডাউন সিলগালা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মী ও এক ডিলারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার বাফা (বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন) গুদামের সামনে রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক এবং কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময়ে কয়েকদিন ধরে অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। বিভিন্ন ডিলারের কাছে ঘুরেও চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।
সকালে সদর উপজেলার বাফা গুদামের সামনে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন। এ সময় ডিলারদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ চলায় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত কৃষকরা দায়িত্বে থাকা কৃষি বিভাগের কয়েকজন মাঠকর্মী ও এক ডিলারকে ধাওয়া করেন। তারা পালিয়ে স্থানীয় একটি পেট্রোল পাম্পে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা সেখানে গিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
আন্দোলনরত কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার ডিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকরা সার না পেলেও কালোবাজারে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
খবর পেয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপারসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। দ্রুত সার পাওয়ার আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ তুলে নিলে বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে একই দিন কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে একটি ভ্যানগাড়ি আটক করেন স্থানীয় জনতা। ভ্যানটিতে ১০ বস্তা সার ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সার অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
এরপর বিক্ষুব্ধ কৃষকরা কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে সার ডিলার মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নয়ন মিয়াকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে তার সার রাখার গোডাউন সিলগালা করে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপজেলার সব কৃষককে পর্যাপ্ত সার দেওয়া হবে। অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে রহমান ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক বলেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। তবে বিতরণ ব্যবস্থার কিছু ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাময়িকভাবে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সার বিতরণ শুরু করা হয়েছে।