বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে হ্যারি কেইন ও বেলিংহামদের রুখে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির দল। নিউ জার্সিতে আগামী রবিবার রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে খেলার চেয়ে মারামারি বেশি হয়েছে। শরীরী লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে গতি আসে। ৪৭ মিনিটেই হুলিয়ান আলভারেজের জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করেন জর্ডান পিকফোর্ড।
এরপর দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ৫৫ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে অ্যান্থনি গর্ডন নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে লিওনেল স্কালোনির দল। ৬৯ মিনিটে নিকোলাস গনসালেসের শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড।
৭৩ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের ধার আরও বাড়ান স্কালোনি। সেই পরিবর্তনের ফলও মেলে দ্রুত। ৭৬ মিনিটে ডি পলের ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মুহূর্ত পর আরেকটি হেডও ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড।
ক্রমাগত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ। ৮৫ মিনিটে মেসির নেওয়া শর্ট কর্নার থেকে ফের বল পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন এনজো ফার্নান্দেজ। অসাধারণ সেই গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
সমতায় ফেরার পরও থামেনি আর্জেন্টিনার আক্রমণ। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রসে জন স্টোনস ও রিস জেমসের মাঝখান থেকে উঠে আসা লাউতারো মার্তিনেজ শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নিলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
বাকি সময়ে মরিয়া চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ বাঁশি বাজতেই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ সাত মিনিটে দুই গোল হজম করে আবারও শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায় ইংল্যান্ডের।