কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অন্তত ৩৫টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টিপাতের ফলে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পদ্মার পানি ও বর্তমান পরিস্থিতি
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্যমতে, শনিবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৫ মিটার, যা বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, যদিও গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে, তবুও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। পানি বৃদ্ধির ফলে রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কৃষি ও শিক্ষা খাতের ওপর প্রভাব
বন্যার পানিতে দৌলতপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৩৫১ হেক্টর আবাদি জমি তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে মরিচ ও কলাক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানিয়েছেন, পানি আরও বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও দাপ্তরিক কাজগুলো সীমিত পরিসরে চলমান রয়েছে।
জনদুর্ভোগ ও জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা
পানিবন্দী মানুষগুলো বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রান্নার স্থান ও নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া বন্যার পানিতে বিষধর সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ রাখা হয়েছে এবং সাপে কাটা রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনার জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকার মানুষ এখন দ্রুত সরকারি ত্রাণ, শুকনো খাবার এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।