ফিলিপাইনে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ শনিবার নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ধারকারী দল জাহাজটির ভেতর থেকে আরও ৪১ জনের পুড়ে যাওয়া দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে এখনো ১৩ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষগুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের জন্য তাদের পরিচয় শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিচয় শনাক্তকরণে স্বজনদের উদ্বেগ
শুক্রবার উদ্ধার করা প্রথম ৩০টি মরদেহ কোরন শহরের বন্দরে আনা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বন্দরের অস্থায়ী তাঁবুতে ফরেনসিক প্রক্রিয়া শুরুর সময় স্বজনরা উৎকণ্ঠা নিয়ে প্রিয়জনের অপেক্ষায় ছিলেন। নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজন আনেলিন মাগবানুয়া জানান, তার স্বামী ম্যানিলা থেকে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তিনি এখনও তার স্বামীর বেঁচে থাকার ক্ষীণ আশা করছেন, যদিও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। ১৩০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে ফেরিটি তার দীর্ঘ যাত্রার প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল, ঠিক তখনই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ধ্বংসস্তূপের ভেতর উদ্ধার অভিযান
অগ্নিকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ফেরিটির ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রচণ্ড তাপ এবং ঘন কালো ধোঁয়ার কারণে দীর্ঘ সময় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছিল। কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, ফেরির ইকোনমি ক্লাস বা সাধারণ যাত্রী সেকশন থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তীব্র তাপে জাহাজের ইস্পাত কাঠামো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং পুরো এলাকা ছাইয়ে ঢেকে গেছে, যা অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
বিস্ফোরণের রহস্য ও ক্যাপ্টেনের অবস্থান
বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাত দিয়ে মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি জানিয়েছে, আগুন লাগার ঠিক আগমুহূর্তে জাহাজের ভেতর থেকে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সামান্য ধোঁয়া থেকে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ফেরিতে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, ফেরির ক্যাপ্টেনের অবস্থান নিয়েও রহস্য রয়ে গেছে। কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমোডোর নোয়েমি কায়াবিয়াব জানান, ক্যাপ্টেন বেঁচে আছেন বলে মৌখিকভাবে শোনা গেলেও, জীবিত উদ্ধার হওয়া ৪৩ জনের আনুষ্ঠানিক তালিকায় তার নাম পাওয়া যায়নি।
নৌ-নিরাপত্তা ও ফিলিপাইনের বাস্তবতা
৭ হাজার ৬০০টিরও বেশি দ্বীপের দেশ ফিলিপাইনে ফেরি যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। তবে প্রায়ই ঘটে যাওয়া এসব নৌ-দুর্ঘটনা দেশটির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।