যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলা পাল্টা হামলায় আবারও অস্থিতিশীল উপসাগরীয় অঞ্চল। সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোতে চালিয়েছে একের পর এক হামলা।
রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর জন্য ব্যবহৃত রসদ সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্মে ‘ভয়াবহ ও আকস্মিক’ হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনীর দাবি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।এতে ঘাঁটিটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার হ্যাঙ্গারগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।
কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ঘাঁটিটিতে থাকা একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত চালু করেছে।
এদিকে তেহরানের এই বিধ্বংসী হামলার পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী এগুলো প্রতিহত করতে কাজ করছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলা এবং টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ধ্বংস করার তাৎক্ষণিক জবাব হিসেবে জর্ডানের এই ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় কোনো আগ্রাসন দেখায়, তবে এর চেয়ে আরও কয়েক গুণ শক্তিশালী ও বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে।
প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে জানতে সিএনএনের পক্ষ থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওয়াশিংটনের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।