হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে ইরানি দ্বীপ লারাকে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার ভোরের দিকে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ‘কিং হুসেইন’ এবং ‘আজরাক’ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে রোববার মধ্যরাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে আইআরজিসি।
আইআরজিসি দাবি, হামলায় উভয় বিমান ঘাঁটির প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা পরিচালনা করে, সেক্ষেত্রে পাল্টা জবাব হবে এই হামলার চেয়েও কঠিন।
এদিকে জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের আকাশসীমায় মোট আটটি বিদেশী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করেছিল এবং সামরিক-বেসামরিক কোনো প্রকার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেগুলো আকাশেই আটকে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
এর আগে রোববার রাতে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে অবস্থিত লারাক দ্বীপে বিমান অভিযান চালিয়ে দু’টি লাঞ্চার ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। হামলার পর এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়, লারাক দ্বীপের এ দু’টি লাঞ্চার হরমুজে জলমাইন স্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হতো।
এদিকে লারাক দ্বীপে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে ইরানের এমপি ইব্রাহিম আজিজি বলেন, “কোনো অপরাধকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি হামলার জবাবে বিধ্বসংসী, যন্ত্রণাদায়ক এবং শিক্ষামূলক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।