ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আহত হয়েছেন ১৪ জন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, মঙ্গলবারের (১ সেপ্টেম্বর) এই হামলা কিয়েভে টানা ষষ্ঠ দিনের রুশ হামলা বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্স জানায়, কিয়েভে নিহত আটজনের মধ্যে তিনজন শিশু। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
কিয়েভ অঞ্চলের বরিসপিল শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং শিশুসহ আরও নয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো।
প্রতিদিন কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ হামলার কারণে লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
ইউক্রেনের সীমান্ত এলাকা ছাড়াও দেশটির জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া হামলা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। মঙ্গলবারের হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের একটি সীমান্ত পারাপারও বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে রাশিয়াতেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বন্দর উস্ত-লুগা এলাকায় ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। একই সময়ে মস্কোতে ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়।
রাশিয়ার সামারা অঞ্চলেও হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে এবং এটি মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।